মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের এক গৃহবধূ স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী শাকিলা আক্তার (৩৩) উপজেলার বালুচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মতলব উত্তর থানায় দায়ের করা অভিযোগে তার স্বামী মাসুম (মাসুদ) প্রধান ও শাশুড়ি মাসুদা বেগমকে অভিযুক্ত করেছেন।
শাকিলা বেগম বলেন, গত ১৩ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আমি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।
তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী নেশাগ্রস্ত এবং প্রায়ই নেশা করে বাড়িতে এসে তাকে মারধর করতেন। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
শাকিলা বেগম আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হিরা বকাউল আমাদের সম্পর্কে চাচা লাগে। তাকে জড়িয়ে আমাকে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও ভিত্তিহীন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের সময় তার পরিবার প্রায় দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং পরবর্তীতে প্রায় দুই লাখ টাকা প্রদান করলেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন বন্ধ হয়নি। উল্টো বিভিন্ন সময় আরও অর্থের জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাকিলার দাবি, গত ১৮ জুন সকালে তার স্বামী তার কাছে যৌতুক দাবি করেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
শাকিলার বাবা ওয়াজকুরনী বেপারী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী নির্যাতন করে আসছে। এখন মেয়ের বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে স্বামী মাসুদ প্রধান এর আগে থানায় দায়ের করা পৃথক অভিযোগে স্ত্রী শাকিলা বেগমের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাকিলা ও তার পরিবার।
মাসুদ প্রধান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি অটোরিকশা চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাই এবং স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করে আসছি। আমার স্ত্রী শাকিলা বেগমের সঙ্গে হিরা বকাউল নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে আমি জানতে পারি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে হিরা বকাউল বলেন, আমি একজন সামাজিক ও সম্মানিত মানুষ। আমার বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাসুদ ও শাকিলার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শাকিলা আমার সম্পর্কে ভাতিজি হয়। তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল না এবং এমন অভিযোগ কল্পনাও করা যায় না। একটি পারিবারিক বিরোধের বিচার করতে গিয়ে আজ আমাকে জঘন্য অপরাধীর আসামির মতো উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে।
আমি প্রশাসন, সমাজের সচেতন মানুষ এবং দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাই, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক। আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের এক গৃহবধূ স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী শাকিলা আক্তার (৩৩) উপজেলার বালুচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মতলব উত্তর থানায় দায়ের করা অভিযোগে তার স্বামী মাসুম (মাসুদ) প্রধান ও শাশুড়ি মাসুদা বেগমকে অভিযুক্ত করেছেন।
শাকিলা বেগম বলেন, গত ১৩ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আমি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।
তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী নেশাগ্রস্ত এবং প্রায়ই নেশা করে বাড়িতে এসে তাকে মারধর করতেন। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
শাকিলা বেগম আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হিরা বকাউল আমাদের সম্পর্কে চাচা লাগে। তাকে জড়িয়ে আমাকে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও ভিত্তিহীন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের সময় তার পরিবার প্রায় দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং পরবর্তীতে প্রায় দুই লাখ টাকা প্রদান করলেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন বন্ধ হয়নি। উল্টো বিভিন্ন সময় আরও অর্থের জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাকিলার দাবি, গত ১৮ জুন সকালে তার স্বামী তার কাছে যৌতুক দাবি করেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
শাকিলার বাবা ওয়াজকুরনী বেপারী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী নির্যাতন করে আসছে। এখন মেয়ের বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে স্বামী মাসুদ প্রধান এর আগে থানায় দায়ের করা পৃথক অভিযোগে স্ত্রী শাকিলা বেগমের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাকিলা ও তার পরিবার।
মাসুদ প্রধান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি অটোরিকশা চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাই এবং স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করে আসছি। আমার স্ত্রী শাকিলা বেগমের সঙ্গে হিরা বকাউল নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে আমি জানতে পারি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে হিরা বকাউল বলেন, আমি একজন সামাজিক ও সম্মানিত মানুষ। আমার বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাসুদ ও শাকিলার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শাকিলা আমার সম্পর্কে ভাতিজি হয়। তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল না এবং এমন অভিযোগ কল্পনাও করা যায় না। একটি পারিবারিক বিরোধের বিচার করতে গিয়ে আজ আমাকে জঘন্য অপরাধীর আসামির মতো উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে।
আমি প্রশাসন, সমাজের সচেতন মানুষ এবং দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাই, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক। আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন