ঢাকা    বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ভোরবেলা

কাদীয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতেই হবে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী



কাদীয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতেই হবে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী
ছবি : আল্লামা মুফতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

মোঃ মোরসালিন :

তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ এর আমির আল্লামা মুফতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, ইসলামের মূল হচ্ছে ঈমান।ইসলামের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো বিষয় অস্বীকারকারী কখনো মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না। আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদের বিশ্বাস যেমন ঈমান ও ইসলামের মৌলিক আকিদা ও বিশ্বাস, ঠিক তেমনিভাবে আকিদায়ে খাতমে নুবুওয়্যাত ঈমান ও ইসলামের মৌলিক আকিদা বা বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা এক, উনার কোনো শরীক নেই; এটা তাওহীদের মূল বিশ্বাস।

ঠিক সেভাবেই নাবিজী মুহাম্মাদ মোস্তফাকে আল্লাহ তায়ালা আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে প্রেরণ করে নুবুওয়্যাত ও রিসালাতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন। উনার পরে আজ পর্যন্ত কোনো নাবী কিংবা রাসূল অবশ্যই আসেননি, এখনো নেই, কিয়ামত পর্যন্ত আসবে না। এই বিশ্বাসকে বলা হয় আকিদায়ে খাতমে নুবুওয়্যাত। এই মৌলিক আকিদাকে যারা বিশ্বাস করবে না, নিঃসন্দেহে তারা অমুসলিম এবং কাফের। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা যেমন অমুসলিম; তারাও তেমন অমুসলিম। যে আকিদা খতমে নুবুওয়্যাত অস্বীকার করলো, সে যেন সকল নাবী রাসুলগনের রিসালাত অস্বীকার করলো। এজন্য আমরা ইহুদী খ্রিস্টানদের বলি কাফের, আর কাদিয়ানীদের বলি কুখ্যাত কাফের।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার কাকরাইল (আইডিইবি) ভবনের মাল্টিপারপার্স হলে আয়োজিত জাতীয় ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, কিন্তু পরিতাপের বিষয়, ভারতের পাঞ্জাব থেকে আবির্ভূত কাদিয়ানী সম্প্রদায় যেহেতু নাবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে স্বীকার করেনা, তাই কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের এবং অমুসলিম। কিন্তু তারা তাদের পরিচয় অমুসলিম, কাদিয়ানী না দিয়ে, মুসলিম পরিচয় দিয়ে; তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ বলে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে; যা বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী।

এসময় তিনি তিন দাবি উত্থাপন করেন। দাবি তিনটি হলো-

১. এই কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

২. দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাদিয়ানীদের এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের তৎপরতা বাংলাদেশে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৩. বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামিন, নূর নাবীজী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শান মান মর্যাদার বিরোদ্ধে যারাই কটূক্তি করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড। এই বিধান রেখে সংবিধানে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সাধারণ মুসলিমদের প্রতি সতর্ক করে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, কাদিয়ানীদের আহমাদী বলা যাবে না, তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ বলা যাবে না, কেউ যদি মিথ্যা নুবুওয়্যাত দাবী করলে তার কাছে নুবুওয়্যাত এর দলীল চাওয়া যাবে না; যেহেতু কুরআন সুন্নাহের আলোকে খাতমে নুবুওয়্যাত সিদ্ধ ও মুতাওয়াতির একটি বিষয়।

ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য পেশ করেন, সাইয়্যেদ মুফতি এহসানুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী জৌনপুরী, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ঈসা শাহেদী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, আল নূর সুন্নীয়া মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সপাল মুফতি মানজুর হোসাইন খন্দকার, মৌকরা দরবারের পীরসাহেব হযরত মাওলানা শাহ নেসার উদ্দিন ওয়ালীউল্লাহ, ধামতি দরবারের পীর আলহাজ্ব মাওলানা বাহাউদ্দিন আহমাদ, আরো উপস্থিত ছিলেন, তাহরিকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাইয়্যেদ মোস্তাফা আহমাদ আমিন আকিব আব্বাসী জৈনপুরী, সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান ফাইরুজ আহমাদ আব্বাসী জৈনপুরী, সাইয়্যেদ আব্দুর নূর উফায়ের আব্বাসী জৈনপুরী

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব, মুফতি সাওবান সাকিব। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যানে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা ও দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ভোরবেলা

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


কাদীয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতেই হবে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মোঃ মোরসালিন :

তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ এর আমির আল্লামা মুফতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, ইসলামের মূল হচ্ছে ঈমান।ইসলামের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো বিষয় অস্বীকারকারী কখনো মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না। আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদের বিশ্বাস যেমন ঈমান ও ইসলামের মৌলিক আকিদা ও বিশ্বাস, ঠিক তেমনিভাবে আকিদায়ে খাতমে নুবুওয়্যাত ঈমান ও ইসলামের মৌলিক আকিদা বা বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা এক, উনার কোনো শরীক নেই; এটা তাওহীদের মূল বিশ্বাস।

ঠিক সেভাবেই নাবিজী মুহাম্মাদ মোস্তফাকে আল্লাহ তায়ালা আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে প্রেরণ করে নুবুওয়্যাত ও রিসালাতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন। উনার পরে আজ পর্যন্ত কোনো নাবী কিংবা রাসূল অবশ্যই আসেননি, এখনো নেই, কিয়ামত পর্যন্ত আসবে না। এই বিশ্বাসকে বলা হয় আকিদায়ে খাতমে নুবুওয়্যাত। এই মৌলিক আকিদাকে যারা বিশ্বাস করবে না, নিঃসন্দেহে তারা অমুসলিম এবং কাফের। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা যেমন অমুসলিম; তারাও তেমন অমুসলিম। যে আকিদা খতমে নুবুওয়্যাত অস্বীকার করলো, সে যেন সকল নাবী রাসুলগনের রিসালাত অস্বীকার করলো। এজন্য আমরা ইহুদী খ্রিস্টানদের বলি কাফের, আর কাদিয়ানীদের বলি কুখ্যাত কাফের।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার কাকরাইল (আইডিইবি) ভবনের মাল্টিপারপার্স হলে আয়োজিত জাতীয় ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, কিন্তু পরিতাপের বিষয়, ভারতের পাঞ্জাব থেকে আবির্ভূত কাদিয়ানী সম্প্রদায় যেহেতু নাবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে স্বীকার করেনা, তাই কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের এবং অমুসলিম। কিন্তু তারা তাদের পরিচয় অমুসলিম, কাদিয়ানী না দিয়ে, মুসলিম পরিচয় দিয়ে; তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ বলে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে; যা বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী।


এসময় তিনি তিন দাবি উত্থাপন করেন। দাবি তিনটি হলো-


১. এই কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

২. দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাদিয়ানীদের এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের তৎপরতা বাংলাদেশে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৩. বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামিন, নূর নাবীজী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শান মান মর্যাদার বিরোদ্ধে যারাই কটূক্তি করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড। এই বিধান রেখে সংবিধানে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সাধারণ মুসলিমদের প্রতি সতর্ক করে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, কাদিয়ানীদের আহমাদী বলা যাবে না, তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ বলা যাবে না, কেউ যদি মিথ্যা নুবুওয়্যাত দাবী করলে তার কাছে নুবুওয়্যাত এর দলীল চাওয়া যাবে না; যেহেতু কুরআন সুন্নাহের আলোকে খাতমে নুবুওয়্যাত সিদ্ধ ও মুতাওয়াতির একটি বিষয়।

ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য পেশ করেন, সাইয়্যেদ মুফতি এহসানুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী জৌনপুরী, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ঈসা শাহেদী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, আল নূর সুন্নীয়া মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সপাল মুফতি মানজুর হোসাইন খন্দকার, মৌকরা দরবারের পীরসাহেব হযরত মাওলানা শাহ নেসার উদ্দিন ওয়ালীউল্লাহ, ধামতি দরবারের পীর আলহাজ্ব মাওলানা বাহাউদ্দিন আহমাদ, আরো উপস্থিত ছিলেন, তাহরিকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাইয়্যেদ মোস্তাফা আহমাদ আমিন আকিব আব্বাসী জৈনপুরী, সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান ফাইরুজ আহমাদ আব্বাসী জৈনপুরী, সাইয়্যেদ আব্দুর নূর উফায়ের আব্বাসী জৈনপুরী

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব, মুফতি সাওবান সাকিব। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যানে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা ও দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।


ভোরবেলা

প্রকাশক : মেরাজ উদ্দিন শুভ
কপিরাইট © ২০২৬ ভোরবেলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত