ঢাকা    বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ভোরবেলা

রমজানে ফল খাওয়ার সাধ্য নেই সাধারণ মানুষের


ভোরবেলা ডেস্ক
ভোরবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রমজানে ফল খাওয়ার সাধ্য নেই সাধারণ মানুষের

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে খোদ-উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। রোজার আগের সময় যে ফলগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল, তা রমজানের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনারস বা আপেল—সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা ফলের বাড়তি চাহিদা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা নিচ্ছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ মানুষের পকেট খালি হচ্ছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের অস্বাভাবিক দামের কারণে।

বাজারে বর্তমানে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মেডজুল খেজুর প্রতি কেজি ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিয়ম খেজুর ১,২০০–১,২৫০ টাকা, কালমী ৮০০–৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং সাধারণ মানের মিনিফী খেজুর ৬০০–৭০০ টাকার নিচে মিলছে না। খেজুরের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ফলের দামও বেড়েছে। আনারসের দাম মানভেদে ৫০০–৬২০ টাকা, কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিদেশি ফলের মধ্যে গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০–৪০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলকভাবে কম দামের ফলের মধ্যে পেঁপে ১৬০–১৮০ টাকা, পেয়ারা ১২০–১৫০ টাকা এবং বেল ১২০–১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমজানের কারণে দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। সবরী ও সাগর কলা প্রতি ডজন ১৫০–১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দাম যাচাই করতে আসা সম্রাট কবির নামের এক ক্রেতা বলেন, “এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ বিক্রেতারা চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজার মাসে সবসময় এমন হয়।” অন্য ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, মাত্র কয়েক দিনে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হয়েছে। তার দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, তারা মূলত বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কিনেন। পাইকারিতে ফলের দাম এক সময় একভাবে ওঠানামা করে। ব্যবসায়ীরা বলেন, পাইকারি দামের সঙ্গে সীমিত লাভের ভিত্তিতে বিক্রি করেন। এছাড়া অনেক সময় ফল নষ্ট হয়ে যায়, সেই লোকসানও তাদেরই বহন করতে হয়।

এই পরিস্থিতি সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য ইফতারের থালা সাজানোকে কঠিন করে তুলেছে, ফলে রমজানের শুরুতেই ফলের বাজারে ক্রেতাদের উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ভোরবেলা

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


রমজানে ফল খাওয়ার সাধ্য নেই সাধারণ মানুষের

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে খোদ-উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। রোজার আগের সময় যে ফলগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল, তা রমজানের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনারস বা আপেল—সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা ফলের বাড়তি চাহিদা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা নিচ্ছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ মানুষের পকেট খালি হচ্ছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের অস্বাভাবিক দামের কারণে।

বাজারে বর্তমানে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মেডজুল খেজুর প্রতি কেজি ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিয়ম খেজুর ১,২০০–১,২৫০ টাকা, কালমী ৮০০–৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং সাধারণ মানের মিনিফী খেজুর ৬০০–৭০০ টাকার নিচে মিলছে না। খেজুরের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ফলের দামও বেড়েছে। আনারসের দাম মানভেদে ৫০০–৬২০ টাকা, কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিদেশি ফলের মধ্যে গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০–৪০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলকভাবে কম দামের ফলের মধ্যে পেঁপে ১৬০–১৮০ টাকা, পেয়ারা ১২০–১৫০ টাকা এবং বেল ১২০–১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমজানের কারণে দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। সবরী ও সাগর কলা প্রতি ডজন ১৫০–১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দাম যাচাই করতে আসা সম্রাট কবির নামের এক ক্রেতা বলেন, “এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ বিক্রেতারা চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজার মাসে সবসময় এমন হয়।” অন্য ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, মাত্র কয়েক দিনে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হয়েছে। তার দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, তারা মূলত বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কিনেন। পাইকারিতে ফলের দাম এক সময় একভাবে ওঠানামা করে। ব্যবসায়ীরা বলেন, পাইকারি দামের সঙ্গে সীমিত লাভের ভিত্তিতে বিক্রি করেন। এছাড়া অনেক সময় ফল নষ্ট হয়ে যায়, সেই লোকসানও তাদেরই বহন করতে হয়।

এই পরিস্থিতি সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য ইফতারের থালা সাজানোকে কঠিন করে তুলেছে, ফলে রমজানের শুরুতেই ফলের বাজারে ক্রেতাদের উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।


ভোরবেলা

প্রকাশক : মেরাজ উদ্দিন শুভ
কপিরাইট © ২০২৬ ভোরবেলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত