ঢাকা    বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ভোরবেলা

সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কর্মীর তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম


ভোরবেলা ডেস্ক
ভোরবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কর্মীর তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব দেখা দিয়েছে। সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মপরিকল্পনায় আড়াই বছর আগে মৃত কর্মীর নাম থাকা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল ও ওষুধের কার্যকর উপস্থিতির অভাবে কিউলেক্স মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মিরপুর, উত্তরা ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

ডিএনসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের (মিরপুর) মশক নিধন কর্মপরিকল্পনায় ৮ নম্বরে অফর আলী নামের এক কর্মীর নাম রয়েছে। তালিকায় তাঁর দায়িত্ব সাগুফতা আবাসিক এলাকায় ওষুধ ছিটানো উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মশক সুপারভাইজার রকিবুল আলম খান জানান, অফর আলী প্রায় আড়াই বছর আগে মারা গেছেন। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য দীর্ঘকাল হালনাগাদ না করায় এমন অসংগতি রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেছেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় মশক নিধন কর্মীদের দেখা মিলছে না। কোথাও দেখা মিললেও তাঁরা কার্যকরভাবে ওষুধ না ছিটিয়ে কেবল ছবি তুলে দায়িত্ব শেষ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কর্মীরা নির্দিষ্ট স্থানে যন্ত্র রেখে ছবি তুলে চলে যান, ফলে লেক ও নর্দমায় মশার প্রজনন কমছে না।

মিরপুরের স্বপ্ননগর ও সাগুফতা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিকেলের পর মশার ঝাঁকে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। কয়েল বা স্প্রে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা জাকির সরকারের মতে, তদারকির অভাবে মশা এত বেড়েছে যে শিশুদের রাতে পড়াতে বসানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর মতে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে নোংরা পানিতে মশা বাড়ছে। তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্তমানে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে মশক নিধনের তদারকি ও সমন্বয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নালা-নর্দমা পরিষ্কার ও লার্ভিসাইডিং নিশ্চিত করা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

ভোরবেলা

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কর্মীর তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব দেখা দিয়েছে। সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মপরিকল্পনায় আড়াই বছর আগে মৃত কর্মীর নাম থাকা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল ও ওষুধের কার্যকর উপস্থিতির অভাবে কিউলেক্স মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মিরপুর, উত্তরা ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

ডিএনসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের (মিরপুর) মশক নিধন কর্মপরিকল্পনায় ৮ নম্বরে অফর আলী নামের এক কর্মীর নাম রয়েছে। তালিকায় তাঁর দায়িত্ব সাগুফতা আবাসিক এলাকায় ওষুধ ছিটানো উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মশক সুপারভাইজার রকিবুল আলম খান জানান, অফর আলী প্রায় আড়াই বছর আগে মারা গেছেন। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য দীর্ঘকাল হালনাগাদ না করায় এমন অসংগতি রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেছেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় মশক নিধন কর্মীদের দেখা মিলছে না। কোথাও দেখা মিললেও তাঁরা কার্যকরভাবে ওষুধ না ছিটিয়ে কেবল ছবি তুলে দায়িত্ব শেষ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কর্মীরা নির্দিষ্ট স্থানে যন্ত্র রেখে ছবি তুলে চলে যান, ফলে লেক ও নর্দমায় মশার প্রজনন কমছে না।

মিরপুরের স্বপ্ননগর ও সাগুফতা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিকেলের পর মশার ঝাঁকে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। কয়েল বা স্প্রে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা জাকির সরকারের মতে, তদারকির অভাবে মশা এত বেড়েছে যে শিশুদের রাতে পড়াতে বসানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর মতে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে নোংরা পানিতে মশা বাড়ছে। তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্তমানে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে মশক নিধনের তদারকি ও সমন্বয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নালা-নর্দমা পরিষ্কার ও লার্ভিসাইডিং নিশ্চিত করা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।


ভোরবেলা

প্রকাশক : মেরাজ উদ্দিন শুভ
কপিরাইট © ২০২৬ ভোরবেলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত