ঢাকা    সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
ভোরবেলা

মতলব উত্তরে বেলতলীতে শুরু ১০৭তম লেংটার মেলা, লাখো ভক্তের সমাগম



মতলব উত্তরে বেলতলীতে শুরু ১০৭তম লেংটার মেলা, লাখো ভক্তের সমাগম
মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলীর বদরপুরে শাহ্ সূফী সোলেমান লেংটার মাজার।

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার বদরপুর গ্রামে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহ্ সুফি সোলেমান (রঃ) ওরফে লেংটা বাবার ১০৭তম ওরশ শরীফ ও ঐতিহ্যবাহী লেংটার মেলা। শুক্রবার (৩১ মার্চ) ১৭ চৈত্র থেকে শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী চলবে।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে ওরশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে আগের দিন থেকেই। মঙ্গলবার সকাল থেকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, যিকির-আজকার, ধর্মীয় বিচারগান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আগত ভক্তদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা শুরুর আগেই কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে রকমারি দোকান। বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী নিয়ে দোকানিরা প্রস্তুত থাকলেও পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্ত-আশেকানরা এসে মাজার এলাকায় অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলেছেন।

স্থানীয়দের মতে, লেংটা বাবার এ ওরশ সাধারণ মানুষের কাছে ‘লেংটার মেলা’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এবং কয়েক কিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ১২৩০ সালে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি মতলবের বিভিন্ন এলাকায় অতিবাহিত করেন। তিনি কখনো পোশাক পরিধান করতেন না বলেই ‘লেংটা’ নামে পরিচিতি পান। ১৩২৫ সালের ১৭ চৈত্র বদরপুরে তার বোনের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে তাকে দাফন করা হয় এবং পরবর্তীতে মাজার গড়ে ওঠে।

ভক্তদের বিশ্বাস, লেংটা বাবার জীবনে নানা অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রোগমুক্তি, মানত পূরণ ও আধ্যাত্মিক শান্তির আশায় মাজারে ভিড় করেন। অনেকে গরু, ছাগল, ডিম, চাল-ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী ও নগদ অর্থ নিয়ে আসেন।

মেলায় ঢোল-বাদ্য, ধর্মীয় গান ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে ভক্তরা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ করেন। তবে বিশাল জনসমাগমের কারণে প্রতি বছরই পকেটমার, ছিনতাইকারী ও প্রতারক চক্রের তৎপরতা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন ও আয়োজকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, ওরশ শরীফ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হলেও আল্লাহর রহমতে প্রতিবছর শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগম হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মেলা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন

ভোরবেলা

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬


মতলব উত্তরে বেলতলীতে শুরু ১০৭তম লেংটার মেলা, লাখো ভক্তের সমাগম

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার বদরপুর গ্রামে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহ্ সুফি সোলেমান (রঃ) ওরফে লেংটা বাবার ১০৭তম ওরশ শরীফ ও ঐতিহ্যবাহী লেংটার মেলা। শুক্রবার (৩১ মার্চ) ১৭ চৈত্র থেকে শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী চলবে।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে ওরশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে আগের দিন থেকেই। মঙ্গলবার সকাল থেকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, যিকির-আজকার, ধর্মীয় বিচারগান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আগত ভক্তদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা শুরুর আগেই কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে রকমারি দোকান। বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী নিয়ে দোকানিরা প্রস্তুত থাকলেও পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্ত-আশেকানরা এসে মাজার এলাকায় অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলেছেন।

স্থানীয়দের মতে, লেংটা বাবার এ ওরশ সাধারণ মানুষের কাছে ‘লেংটার মেলা’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এবং কয়েক কিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ১২৩০ সালে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি মতলবের বিভিন্ন এলাকায় অতিবাহিত করেন। তিনি কখনো পোশাক পরিধান করতেন না বলেই ‘লেংটা’ নামে পরিচিতি পান। ১৩২৫ সালের ১৭ চৈত্র বদরপুরে তার বোনের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে তাকে দাফন করা হয় এবং পরবর্তীতে মাজার গড়ে ওঠে।

ভক্তদের বিশ্বাস, লেংটা বাবার জীবনে নানা অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রোগমুক্তি, মানত পূরণ ও আধ্যাত্মিক শান্তির আশায় মাজারে ভিড় করেন। অনেকে গরু, ছাগল, ডিম, চাল-ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী ও নগদ অর্থ নিয়ে আসেন।

মেলায় ঢোল-বাদ্য, ধর্মীয় গান ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে ভক্তরা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ করেন। তবে বিশাল জনসমাগমের কারণে প্রতি বছরই পকেটমার, ছিনতাইকারী ও প্রতারক চক্রের তৎপরতা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন ও আয়োজকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, ওরশ শরীফ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হলেও আল্লাহর রহমতে প্রতিবছর শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগম হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মেলা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।


ভোরবেলা

প্রকাশক : মেরাজ উদ্দিন শুভ
কপিরাইট © ২০২৬ ভোরবেলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত