প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
মাদারীপুরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা’
শফিকুল ইসলাম ||
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন ও মানহানির অভিযোগে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলাটি ফৌজদারি দণ্ডবিধি আইনের ৫০০, ৫০১ ও ৫০৬ (২) ধারায় দায়ের করা হয়। যাহার সি-আর মামলা নম্বর-১১৬/২০২৬ (ডাসার)।ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এবং সংবাদকর্মী মো. হেমায়েত হোসেন খান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে। Face the time ও Nazmul Hasan নামের ফেইসবুক পেইজের এডমিন ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তি নাজমুল হাসানকে।বাদী মো. হেমায়েত হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে সততা ও সুনামের সঙ্গে ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় গণমাধ্যম ‘এশিয়ান টেলিভিশন’,দৈনিক ‘বাংলাদেশের আলো’র মাদারীপুর প্রতিনিধি এবং ‘দি ডেইলি ইভিনিং নিউজ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন।অন্যদিকে,আসামি নাজমুল হাসান পূর্বে ওই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় এবং সদস্যদের নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৬ জুন ২০২৬ তারিখে তাকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।নির্ধারিত সময়ে আসামি নাজমুল হাসান নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংগঠনের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরকৃত এক আদেশে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারাদেশে ক্ষিপ্ত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন আসামি নাজমুল হাসান।বহিষ্কারের প্রতিশোধ নিতে আসামি নাজমুল হাসান গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে ‘Face The Time’ ও ‘Nazmul Hasan’ নামের দুটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করেন। তিনি বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ, চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট এবং মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন। এছাড়া বাদীর বহিষ্কারাদেশকে ‘আন্ডার মেট্রিক’ বলে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে বাদীর দীর্ঘদিনের অর্জিত সামাজিক সুনাম ও মর্যাদার প্রায় ৫ কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।আসামির এই মিথ্যা অপপ্রচার ও মানহানির প্রতিবাদে গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন বাদী মো. হেমায়েত হোসেন খান। সংবাদটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরও আসামির অপপ্রচার থামেনি; বরং তা আরও বৃদ্ধি পায়।তাই বাদী ন্যায়বিচার প্রাপ্তির স্বার্থে এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে মানহানির অপরাধে আসামি নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১/৫০৬ (২) ধারার অভিযোগে বিজ্ঞ আদালত সিআইডি, মাদারীপুরকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
প্রকাশক : মেরাজ উদ্দিন শুভ
কপিরাইট © ২০২৬ ভোরবেলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত