প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
কাবার ঠিক মাথার ওপর সূর্য-মক্কায় বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য
||
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এক বিরল ও বিস্ময়কর মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন মানুষ। নির্দিষ্ট সময়ে সূর্য পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক ওপরে অবস্থান করায় নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রায় ছায়াহীন এক অনন্য মুহূর্ত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, যা কেবল সৌন্দর্যই নয় বরং কিবলা নির্ধারণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণার জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।এই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৬ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে। এ সময় সূর্য কাবার একেবারে মাথার ওপর অবস্থান করায় মক্কা নগরীতে দাঁড়ানো যেকোনো বস্তুর ছায়া প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়। ফলে এটি একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য তৈরি করে, অন্যদিকে তেমনি বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির পরিচালক প্রকৌশলী মাজেদ আবু জাহরা জানান, ওই সময়ে সূর্য কাবার সাথে প্রায় সর্বোচ্চ নিকটবর্তী অবস্থানে পৌঁছায়। এর কৌণিক মান ছিল প্রায় ৮৯.৯৪ ডিগ্রি, অর্থাৎ সূর্য লম্বরেখা থেকে মাত্র ০.০৬ ডিগ্রি দূরে ছিল। এই অবস্থার কারণে সূর্যের আলো সরাসরি কাবার ওপর পড়ে এবং আশপাশে থাকা বস্তুর ছায়া প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান ও সূর্যের বার্ষিক আপাত গতির কারণে বছরে দুইবার এমন ঘটনা ঘটে। কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী সূর্যের চলাচলের ফলে নির্দিষ্ট সময়ে এই ধরনের ছায়াহীন মুহূর্ত তৈরি হয়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।এই বিরল মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে কিবলার সঠিক দিক নির্ণয় করা সম্ভব হয়। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদের দিক নির্ধারণ ও সংশোধনের ক্ষেত্রে এই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে ব্যবহার করে আসছেন গবেষকরা।মক্কার এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য শুধু চোখে পড়ার মতো সৌন্দর্যই নয়, বরং ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকাশক : মেরাজ উদ্দিন শুভ
কপিরাইট © ২০২৬ ভোরবেলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত